সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা এবং ইন্টার্ন ছাত্রীদের হোস্টেলে বখাটেদের অনুপ্রবেশের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। এতে মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি তামিম হাবিব বলেন, একটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তামিম হাবিব বলেন, ‘সীমিত জনবল, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এরপরও আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক আক্রমণ নেমে আসে, তখন তা শুধু কষ্টদায়কই নয়, বরং ভীতিকর ও হতাশাজজনক। এই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভেতরে প্রবেশ ও প্রস্থানে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। এতে খুব সহজেই দুষ্কৃতকারীরা প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক গেটপাস সিস্টেম চালু করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ বুলবুল আহমেদ, ইন্টার্ন চিকিৎসক ইউসুফ আলী, হাবিবুর রহমান, গোলাম মর্তুজাজ, শাহরিয়া সিদ্দিক ও আনিকা তাবাসসুমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১ এপ্রিল হাসপাতালের শিশু বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনেরা হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
সিএ/এমই


