গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা পশ্চিমপাড়া গ্রামে মায়ের আত্মহত্যার ঘটনার পর বাবাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এতে করে বাড়িতে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে দুই শিশু ভাই নিশান মন্ডল (৭) ও সৃজন মন্ডল (৫)। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই শিশু রাস্তার ধারে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিশান ও সৃজনের বাবা মিলন মন্ডল (৩৭) পেশায় দিনমজুর। তিনি তিন ভাইয়ের মধ্যে একজন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল। গত শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বাড়ৈ (২৬)–এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে স্বপ্নার বাবা পরেশ বাড়ৈ কাশিয়ানী থানায় জামাতা মিলন মন্ডলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ মিলনকে গ্রেপ্তার করে এবং রোববার (৭ ডিসেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মিলন মন্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর বাবা ও দুই ভাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে দুই শিশু পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের দেখভাল করার মতো নিকট আত্মীয় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেননি। ফলে শিশু দুটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের পরেশ বাড়ৈর মেয়ে স্বপ্না বাড়ৈর সঙ্গে মিলন মন্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বপ্না মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। প্রথমে খুলনায় এবং পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে আর্থিক সংকটের কারণে গত প্রায় তিন মাস ধরে স্বপ্নার নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ চালিয়ে যেতে পারেননি মিলন মন্ডল। এতে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বপ্না। শুক্রবার রাতে দুই সন্তানকে ঘরের বারান্দায় রেখে ঘরের আড়ার সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। সে সময় মিলন মন্ডল বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
স্বপ্নার বাবা পরেশ বাড়ৈ বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছিল, তার স্বামীর সঙ্গে এক মেয়ের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার মেয়ে সেটা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।’
প্রতিবেশী উন্নতি মণ্ডল বলেন, ‘বিয়ের দুই বছর পর থেকেই স্বপ্নার মানসিক সমস্যা আমাদের নজরে আসে। তার আচার-আচরণ ও চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা দেখে এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে পাবনায় চিকিৎসা করানো হয়। সেখান থেকে আসার পর কিছুদিন ভালো ছিল, পরে আবার একই সমস্যা শুরু হয়।’
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, মিলন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সিএ/এমই


