ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে তাদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, বর্তমানে ৬৪ শিশুর চিকিৎসা চলমান।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, হাসপাতালের আটতলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে চিকিৎসা চলমান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিযুক্ত চিকিৎসক মো. গোলাম মোত্তাকীন জানিয়েছেন, ১৭ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত ভর্তি শিশুদের মধ্যে ১২২টির নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় ৮৫টির মধ্যে ৪৭টির শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত রোগীদের ৮২ শতাংশই ময়মনসিংহ জেলার। এছাড়া নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও লালমনিরহাটের শিশুরাও আক্রান্ত।
হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬–৯ মাস বয়সী ৩৪ শতাংশ এবং ৬ মাসের কম বয়সী ১৭ শতাংশ। জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ জানান, আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, অর্থাৎ তারা এখনও টিকা নিতে পারেননি। বাকি শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশ ১ ডোজ এবং ১০ শতাংশ ২ ডোজ টিকা পেয়েছে।
ফয়সল আহমেদ আরও বলেন, “গত বছর টিকার সংকট এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতির কারণে শিশুদের টিকা সেবা বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
সিএ/এমই


