মেহেরপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শালিকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফারাবি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবু সুফিয়ান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বুড়িপোঁতা ইউনিয়নের দক্ষিণ শালিকা গ্রামে আবু সুফিয়ানের বাড়িতে অভিযান চালায় মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ। আটক আবু সুফিয়ান ওই গ্রামের সুরত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে সার, কীটনাশক ও ডিজেলের খুচরা ব্যবসা করে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আবু সুফিয়ানের গোডাউন থেকে ২৭টি ব্যারেলে সংরক্ষিত প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় তিনি জ্বালানি তেল মজুত বা বিক্রির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে তাঁকে আটক করে অবৈধ মজুতের অভিযোগে মামলা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবু সুফিয়ান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সার, কীটনাশক ও ডিজেল বিক্রি করে আসছেন। নিয়মিতভাবে তাঁর দোকানে ডিজেলবাহী যানবাহন তেল সরবরাহ করে। এলাকার অনেক কৃষক সেচকাজের জন্য তাঁর কাছ থেকেই ডিজেল কিনে থাকেন। হঠাৎ পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে জ্বালানি তেল জব্দ করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে আটক আবু সুফিয়ান দাবি করেছেন, তিনি অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করেননি। কৃষি মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা পূরণ এবং নিয়মিত ব্যবসার অংশ হিসেবেই তিনি এই তেল সংগ্রহ করেছিলেন। তবে কেন তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র ছিল না, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এর আগে একই দিন দুপুরে বুড়িপোঁতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে জেলা প্রশাসনের আরেকটি অভিযানে মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে প্রায় ৮০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনাতেও অবৈধ মজুতের অভিযোগে সদর থানায় মামলা হয়েছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে এই জ্বালানি তেল মজুত করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং বুধবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সিএ/এমই


