জামালপুরে ডিজেলের সংকটে যাত্রীবাহী নৌকা ঘাটে স্থবির হয়ে পড়েছে। ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল ঘাট থেকে যমুনা নদীতে জীবিকা নির্বাহ করা মাঝিরা নৌকা চালাতে পারছেন না। এতে চরাঞ্চলের মানুষ এবং নৌকা চালকরা দুপক্ষেই বিপাকে পড়েছেন।
খাইরুল মিয়া, একজন নৌকাচালক বলেন, “বাজারের খুচরা দোকানে তেল নেই। বেশি দাম দিলে তেল পাওয়া যায়, কিন্তু অনেক সময়ও সঠিক পরিমাণে জোগান পাওয়া যায় না। আগে এই ঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত নৌকা ছুটত, এখন ২০টিরও কম।”
ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ডিজেল না পাওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন মাঝিরা। গুঠাইল ঘাটটি ইসলামপুরের কয়েকটি চরাঞ্চল এবং পাশের গাইবান্ধা, বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।
নৌকা চালকদের অভিযোগ, বেশি দামে তেল জোগাড় করা সম্ভব হলেও সেই খরচ মেটানো যাচ্ছে না, কারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বাড়ানো যায় না। ফলে অনেক চালক নৌকা চালানো বন্ধ করেছেন।
গতকাল সোমবার গুঠাইল ঘাটে দেখা গেছে, কয়েকটি নৌকা বাঁধা, চালকেরা নৌকা পরিষ্কার করছেন বা বসে আড্ডা দিচ্ছেন। দুই-একটি নৌকা ছেড়ে যাচ্ছে, যেখানে যাত্রীদের ভিড় বেশি। একই অবস্থা মুরাদাবাদ, কুলকান্দি ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নৌঘাটেও।
নৌকাচালক রবিউল ইসলাম জানান, “এখন ডিজেল কিনতে হচ্ছে ১৫০–১৮০ টাকায়, এত দামে নৌকা চালানো সম্ভব নয়।”
নৌকা না চলার কারণে ঘাটের আশপাশের দোকানদার ও শ্রমিকদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ পারাপার হতে পারছে না।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, “কোথাও বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে কিনা দেখব, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌকার তেলের বিষয়ে আমরা সম্ভাব্য সমাধান খুঁজব।”
সিএ/এমই


