গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি বন্ধ ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে বিজিবি ও জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত আটটার দিকে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৩৩ হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাম্পের ব্যবস্থাপককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আবদুল আলী ফিলিং স্টেশনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পাম্পে প্রায় ২৮ হাজার লিটার ডিজেল এবং প্রায় ৫ হাজার লিটার অকটেন মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা পরে জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে বিজিবির গাজীপুর ব্যাটালিয়নের (৬৩ বিজিবি) মেজর শরিফুল আহমেদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পাম্পে গিয়ে দেখি দড়ি দিয়ে বাধা রয়েছে। অন্যান্য স্থানে যেমন ভিড় দেখা যায় এই পাম্পে আমরা তেমন ভিড় দেখতে পাইনি। পরে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার লিটার ডিজেল ও ৫ হাজার ৪০০ লিটারের মতো অকটেন মজুত অবস্থায় জব্দ করি।’
অভিযানের সময় জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার অভিযোগে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম বাবুল (৬০) কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি কোনাবাড়ি থানার বাইমাইল এলাকার বাসিন্দা। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এদিকে সরকার সারা দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে অভিযান জোরদার করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ঘটনায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজিবির গাজীপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাসুদ আল ফেরদৌস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে অবৈধ মজুদ ও বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সিএ/এমই


