বগুড়ার শেরপুরে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ও বিশৃঙ্খলা তীব্র হচ্ছে। আজ রোববার দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক মোটরসাইকেলচালক তেল না পেয়ে হতাশ। কেউ কেউ প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদার চাপ এবং অবৈধ মজুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধা সৃষ্টি করছে। মেসার্স কুদ্দুস অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল হামিদ বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ২৭ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছিল, যা মার্চে বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার লিটার হয়েছে। তবু ক্রেতার চাপ এত বেশি যে কর্মীরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।
মেসার্স তৌহিদ ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক মো. ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে কেউ কেউ একাধিকবার তেল সংগ্রহ করছেন, ফলে সাধারণ ক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। মেসার্স মির্জাপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক ফাহিমুল ইসলাম বলেন, একটি লরি তেল আনার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত মোটরসাইকেল ভিড় করে। পুলিশ দেরিতে পৌঁছায় এবং পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কিছু মোটরসাইকেলচালক অভিযোগ করেছেন, অসাধু চক্র তেল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আগে গ্রামীণ বাজারে কিছুটা বেশি দামে তেল পাওয়া যেত, কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই শহরের পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পাম্পগুলোতে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আজ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে, যারা তেলের বিক্রয় ও মজুত হিসাব রাখছেন এবং অবৈধ মজুত রোধে নজর রাখবেন।
সিএ/এমই


