মানিকগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পেট্রলপাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পদ্মা ফিলিং স্টেশনের সামনে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোলে শিশু নিয়ে বসে ছিলেন রাফিজা আক্তার। তিনি জানান, ‘বাচ্চার বাবায় হুন্ডার (মোটরসাইকেল) তেল না পাইলে তো যাইতে পারতেছি না।’
তিনি ও তাঁর স্বামী লোকমান হোসেন দুই কিলোমিটার দূরের অন্য পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনের কারণে ফের এই পাম্পে আসেন। লোকমান বলেন, ‘এখানেও আধা ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে আছি। তেল না পাইলে আমরা যেতে পারব না, বাড়িও ফিরতে পারব না।’
দৈনন্দিন জীবনে তেলের ঘাটতি সব ধরনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। রাইড শেয়ারিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে, জরুরি কাজে দেরি হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের লাইন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের মধ্যেও ছড়িয়ে গেছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর প্রতিটি মোটরসাইকেলের চালক ২০০ টাকার জ্বালানি তেল পাচ্ছেন।
দুই সপ্তাহ ধরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পাম্পে তেলের জন্য দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। চালকরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময়ের পরও নিশ্চিত নয় তেল পাওয়া যাবে কি না।
পাম্পের ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জানান, চাহিদার তুলনায় কম তেল আসায় সীমিত পরিমাণে বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে সব গ্রাহক অন্তত অল্প পরিমাণ তেল পান। বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মানিকগঞ্জ ও সাভার অঞ্চলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগে প্রতিদিন ১৬ হাজার লিটার তেল সরবরাহ হতো, বর্তমানে ১০ হাজার লিটার আসছে, ফলে সংকট তৈরি হয়েছে।
সিএ/এমই


