লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকায় মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। সুনামগঞ্জের পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন রয়েছেন। মৃতদের লাশ সাগরে ফেলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, তারা এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, এ ঘটনায় যেসব দালাল দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
মৃতদের পরিচয় এবং গ্রামভিত্তিক তথ্য পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া গেছে। দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্যান্য ১১ জনের নামও নিশ্চিত হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের পরিবারে মাতম চলছে। জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত শায়েক আহমদের বাবা আখলুছ মিয়া প্রথম আলোকে জানান, দালাল আজিজুল ইসলাম গ্রিস পাঠানোর জন্য এলাকার যুবকদের সঙ্গে চুক্তি করে অর্থ আদায় করতেন। নিহতদের পরিবার তাদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
এক যুবক, যিনি ৬ মার্চ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছেছেন, জানিয়েছেন, নৌকাটি ছয় দিন ধরে সাগরে ভাসছিল। খাবার ও পানির সংকটের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে মৃতদের লাশ সাগরে ফেলা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
সিএ/এমই


