ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারানো তরুণ শায়েকের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছানোর পর তাঁর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখতে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
শায়েকের ফুপু হেনা বেগম কাছে যাঁকেই পাচ্ছিলেন, তাঁকেই ধরে শায়েকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মা নাই পুয়া। আমরারে লাশটা আইন্না দেও। সোনার চানের মুখটা দেখি। না খাইয়া পুয়াটা মরছে। শুনছি খালি পানি পানি করছে। একফোঁটা খাইবার পানি পাইছে না। হায়রে হায়…।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শায়েকের বাবা আখলুছ মিয়া দীর্ঘদিন কুয়েতে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। পরিবারের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে শায়েক ছিলেন বড়। সামান্য কিছু জমিজমা চাষাবাদ করেই সংসার চলত তাঁদের। অর্থকষ্টে ভরা এই পরিবারের জন্য শায়েকই ছিলেন প্রধান ভরসা। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরের পর শোকাহত পরিবারটির খোঁজ নিতে তাঁদের বাড়িতে যান রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নেই দুজন মারা গেছে। দুজনই তরুণ। পরিবারগুলো কীভাবে সহ্য করবে।’
এ সময় জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বরকতুল্লাহও সেখানে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, ‘লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে এই উপজেলার পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আমি সবার বাড়িতে যাচ্ছি। তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। একই সঙ্গে দালালদের তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা পুলিশকে দেওয়া হবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
সিএ/এমই


