নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ শাফী ইমাম রুমীর (বীর বিক্রম) ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাদা-কালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদ রুমীর বীরত্বগাঁথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও অতিথিরা তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাদা-কালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের সম্পাদক এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কবি সালেম সুলেরী। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার।
আলোচনা সভায় শহীদ রুমীর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদার রহমান, গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াস হোসেন, শমসের আলী, মো. রবিউল ইসলাম, জসিয়ার রহমান, কানাডাপ্রবাসী সংস্কৃতিসেবী শেরিনা শরিফ, সাংবাদিক তাহমিন হক, মীর মাহমুদুল হাসান এবং আনোয়ারুল আলম প্রধানসহ আরও অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ শাফী ইমাম রুমী ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী গেরিলা যোদ্ধা। তাঁর বীরত্ব ও আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তারা ডোমার উপজেলা শহর থেকে বসুনিয়ার হাট পর্যন্ত শাফী ইমাম রুমীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি তাঁর নামে নামকরণের দাবি জানান।
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমী ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশ নেন। একই বছরের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে ঢাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা শরীফ ইমামের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া গ্রামে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে শহীদ রুমী (বীর বিক্রম) সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এর আগে সেখানে শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সিএ/এমই


