ফরিদপুরের সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মো. ফারুকউজ্জামান মিয়া। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুকউজ্জামান মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করার পর বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন না। এখন থেকে নিজের এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্থানীয় মানুষের সমর্থনে তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
ফারুকউজ্জামান মিয়া আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে তিনি সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে তাঁর নামে কোনো মামলা ছিল না। তবে ৫ আগস্টের পর তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার প্রত্যেকটিতে তিনি জামিনে আছেন।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি জেনেছি, তিনি আজ ফরিদপুরের সংবাদ সম্মেলন করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আগে কোনো আলাপ করা হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিয়া এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. অহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন।
সিএ/এমই


