চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে মোটর পার্টস ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের পরিবার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সর্বশেষ চিকিৎসাধীন ছিলেন সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), যিনি বুধবার রাত দুইটার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান। এর ফলে সাখাওয়াত হোসেন, তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম, ছেলে সাফায়াত হোসেন ও মেয়ে আইমান—চারজনের কেউ বেঁচে নেই।
বিস্ফোরণে পরিবারটির সঙ্গে মারা গেছেন সাখাওয়াতের পর্তুগাল প্রবাসী মেজ ভাই সামির আহমেদ, তার স্ত্রী পাখি আক্তার এবং ছোট ভাই শিপন হোসেন। এছাড়া দগ্ধ নয়জনের মধ্যে দুই শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো অজানা। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়নি। তবে বাসায় রাখা গাড়ির যন্ত্রাংশ, উচ্চ চাপযুক্ত গ্যাস সংরক্ষিত কমপ্রেসিং ইউনিট এবং রঙ-সংক্রান্ত রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে কোনো একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ভবনটিতে জরুরি নির্গমন সিঁড়ি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। মালিকপক্ষকে তদন্তের জন্য অনুমোদন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার পর একমাস পেরিয়ে গেলেও হালিশহরের ওই ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ উদঘাটিত হয়নি।
সিএ/এমই


