ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত দ্বীন ইসলামের (৩০) বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কসবা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাতে করা মামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির বাবা বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে মামলার কপি আদালতে পাঠানোর আগ পর্যন্ত আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
নিহত দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে তিনি মাদকসেবন, মাদকের ব্যবসা, সীমান্তে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করতেন। এ ছাড়া জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েও অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পরিবারের দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানা গেছে। দুই সপ্তাহ আগে এ নিয়ে তাঁর মা পারুল বেগম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।
নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মেহারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল আওয়াল, আক্তার হোসেন, ওমর ফারুক, মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, জুলহাস মিয়া, বাবুল মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হান্নান, মো. হারুন মিয়া, মো. জিলানী মিয়া, আলমগীর হোসেন, শহিদ মিয়া, মোসলেম মিয়া, জানু মিয়া, নুরুল হক ও সুমন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত দ্বীন ইসলামের ছোট বোন জোনাকি আক্তার বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় আমার ভাইরে কে যেন থ্রেট দিছে। ভাই সন্ধ্যায় মাদক নিয়ে ভিডিও ছাড়ছে। মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে আইসা কইছে, “নাশতা দাও।” ভাত দেওনের জন্য পানি আনতে আমি টিউবওয়েলের দিকে যাই। হঠাৎ দেখি, কিছু পোলাপাইন ও মানুষ বাড়ির দিকে আইতাছে। ভাইরে কওয়ার পর ঘরের কারে (সিলিংয়ে) গিয়া লুকাইছে। পোলাপাইন ও মানুষগুলো আইসা ঘরের দরজা ভাইঙ্গা ভাইরে খুঁইজা বাইর কইরা চোহের সামনে মারধর করে। বাড়ি থেইক্যা টেনে হিঁচড়াইয়্যা রাস্তা নিয়ে অটো গাড়িতে তুইল্যা গাঙের পাড়ের দিকে লইয়্যা গেছে।’
বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘মেহারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল আওয়াল ও মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি দল বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং ছেলে দ্বীন ইসলামকে মারধর করে। তাদের ভয়ে ছেলে ঘরের সিলিংয়ের ওপর উঠেও রক্ষা পায়নি। সেখান থেকে ছেলেকে নামিয়ে মারধর করে অটোতে (ইজিবাইক) তুলে ছেলেকে নিয়ে যায়। মাদকের ব্যবসা নিয়ে লেখালেখি করায় এবং লাইভে এসে বিএনপি নেতার নাম বলায় তাঁরা খেপে ছেলেকে হত্যা করেছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধসহ স্থানীয় নানা দ্বন্দ্বের জেরে দ্বীন ইসলামকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দ্বীন ইসলামকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বুড়ি নদ পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় নদীর পাড়ে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার রাতে শিমরাইল গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সিএ/এমই


