সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হাওরে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর এক শিশুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার শ্রীনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আবদুল্লাহ আল মামুন (৮)। সে ওই গ্রামের প্রবাসী মোস্তাক আহমদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, শিশুটির মাথার পেছনের অংশ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুন দুপুরে প্রতিবেশী দুই শিশুর সঙ্গে হাওরে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে সঙ্গে থাকা অন্য দুই শিশু জানায়, মামুন তাদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। সন্ধ্যার আগে হাওরের একটি ধানখেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে শিশুটির বাবা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা কী সুন্দর পড়ত। কে মারল তারে? আমি ১২ ঘণ্টা, ১৩ ঘণ্টা পরিবারের লাগি বিদেশে কামলা দিই। আমার মা ও বাবা অসুস্থ। আমার ছেলের খুনিদের ধরার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের কাছে দাবি জানাই।’
প্রতিবেশীরা জানান, মোস্তাক আহমদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে আছেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নিহত মামুন পরিবারের বড় সন্তান ছিল এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, হাওর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
সিএ/এমই


