চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে এক গৃহবধূ ও তাঁর দুই বছরের শিশুকন্যার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক দেয়াঙ বাজার এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন সুমি আক্তার (১৯) এবং তাঁর মেয়ে ওয়াজিহা (২)। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে মোহাম্মদ মিজান, তাঁর মা, স্ত্রী সুমি আক্তার ও তাঁদের শিশুকন্যা বসবাস করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিজান স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ফোন করে জানান, তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এরপর তিনি ও তাঁর মা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিনের ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় মা ও শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস জানান, ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, সুমি আক্তার ও তাঁর শিশুকন্যার মরদেহ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছিল। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
নিহত সুমির পরিবার অভিযোগ করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। তাঁদের দাবি, সুমির স্বামী ও শাশুড়ি তাঁকে এবং তাঁর শিশুকন্যাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমি আক্তার কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের মেয়ে। তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে পটিয়া উপজেলার কৈয়গ্রামের মোহাম্মদ মিজানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস শুরু করেন।
নিহতের মা হোসনে আরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে মেয়ের স্বামী মিজান ফোন করে মাগরিবের আগে। ওই সময় আমি মেয়ের গোঙানির শব্দ পাই। মেয়ের জামাই ও তার মা মিলে আমার মেয়েকে মেরে পালিয়ে গেছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি রহস্যজনক এবং এর পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সিএ/এমই


