টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় নিখোঁজ থাকার তিন দিন পর এক যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কুড়াতলী এলাকার একটি ইটভাটার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইউসুফ খান মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের ঘাগড়াই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় রিজন সিকদার ও হানিফ সিকদার নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ইউসুফ খান স্থানীয়ভাবে মাটি কিনে ট্রাকে করে অন্যত্র বিক্রি করতেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে তিনি ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ইউসুফের বোন পান্না আক্তার জানান, তাঁর ভাই বাড়ির পাশের এক ব্যক্তির জমি কিনেছিলেন। সেদিন রাতে মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি বের হন। নিখোঁজের পরদিন রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাতটার দিকে ইউসুফের ফোন থেকে পরিবারের কাছে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, মাটির ব্যবসার কারণে পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। তবে থানায় যোগাযোগ করে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ইউসুফের মাটি বহনকারী একটি ট্রাকের ধাক্কায় হানিফ সিকদারের একটি গাছ ভেঙে যায়। এ ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।
এক ট্রাকচালক জানান, শনিবার ভোর চারটার দিকে তিনি গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ইউসুফের সঙ্গে দেখা করেন। তখন ইউসুফ তাঁকে সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কথা বলেন। এ সময় তাঁর পাশে দাড়িওয়ালা একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন, যাকে ট্রাকচালক চিনতে পারেননি।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে কুড়াতলী এলাকার আলমাছ মিয়ার ইটভাটার পাশে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ইটভাটার পাশে ইটের টুকরা ও মাটি দিয়ে চাপা অবস্থায় ছিল।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক রাহাদুজ্জামান আকন্দ জানান, পুলিশ মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হত্যাকাণ্ড। তবে হত্যার কারণ ও পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
সিএ/এমই


