পার্বতীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলের প্রধান ও বৃহত্তম লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) মেরামত শেষে পাঁচটি রেল ইঞ্জিন আবারও রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে। সীমিত বাজেট ও জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে রোববার (৭ ডিসেম্বর) রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে পাঁচটি ডিজেলচালিত লোকোমোটিভের জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত কার্যক্রম সম্পন্ন করে ইঞ্জিনগুলো পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হয় এবং রেলবহরে যুক্ত করা হয়।
কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার মেকানিক্যাল শাখায় অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৫৫৯ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৩ জন। প্রতি মাসেই গড়ে একজন থেকে দুজন কর্মী অবসরে যাচ্ছেন। ফলে সীমিত জনবল নিয়েই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কারখানা সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৬টি রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা কয়েকটি ইঞ্জিনও মেরামত করে আবার সচল করা হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় ১৯৭৮ সালে তৈরি ৪৮ বছর পুরোনো একটি ইঞ্জিন মেরামত করে রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে।
একটি রেল ইঞ্জিনে সাধারণত ৩৪ হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ থাকে। এসব যন্ত্রাংশের অনেকগুলো বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। একটি ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল প্রায় ২০ বছর। তবে আয়ুষ্কাল অতিক্রম করার পর প্রতি ছয় বছর পরপর ইঞ্জিনগুলোকে জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য পার্বতীপুরের এই কারখানায় পাঠানো হয়। ত্রুটিপূর্ণ অংশ পরিবর্তন, নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে ইঞ্জিনগুলো পুনরায় সচল করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেলবহরে মোট ২৯৪টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রডগেজ ১০৮টি এবং মিটারগেজ ১৮৬টি। এসবের প্রায় ১৫০টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রডগেজ ৬০টি ও মিটারগেজ ৮০টি ইঞ্জিন রয়েছে। রেলবহরে এখনো ৬৭ বছর পুরোনো আটটি মিটারগেজ ইঞ্জিন চালু রয়েছে। নতুন করে ৪৮ বছর পুরোনো আরেকটি ইঞ্জিন মেরামত করে বহরে যুক্ত করা হয়েছে।
১৯৯২ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুরে ১১১ একর জমির ওপর ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপন করা হয়।
কারখানার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ হাসানুজ্জামান বলেন, সীমিত বাজেট ও জনবল নিয়েই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় ১৬টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাচ্ছে না। প্রতি অর্থবছরে ৩০টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে ১৮ থেকে ২০টির বেশি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
সিএ/এমই


