নোয়াখালীর সুধারাম থানার এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর প্রতিবেশীর বাড়ির পুকুর থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম রনজিত কুরী (৫৩)। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিরামপুর এলাকার হেঞ্জু মিয়ার বাড়ির পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
রনজিত কুরী একই ওয়ার্ডের গোপাই রামশংকর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাঁধেরহাট বাজারে ওষুধের ব্যবসা করতেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে রনজিত কুরীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে গতকাল শুক্রবার সুধারাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর স্ত্রী শিল্পি রানী কুরী।
আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা কাশিরামপুর এলাকার হেঞ্জু মিয়ার বাড়ির পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে জানান। পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিখোঁজের জিডিতে শিল্পি রানী কুরী উল্লেখ করেন, তার স্বামী বুধবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
শিল্পি রানী কুরী প্রথম আলোকে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন আগে রনজিত কুরী বাঁধেরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দত্তেরহাট এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এরপর একই এলাকার একজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। চাঁদা দেওয়ার পর বুধবার রাতে রনজিত নিখোঁজ হন এবং আজ তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে পুকুরে লাশ পাওয়া গেছে সেখানে রনজিতের যাওয়ার কথা ছিল না। তিনি পরিচিতজনদের ছিনতাই ও চাঁদার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পুলিশ ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, লাশের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। পরিবার জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি আগে থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ছিনতাই ও চাঁদা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
সিএ/এমই


