ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে হরিপুর থানায় দায়ের করা মামলায় ছয়জন বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন হরিপুরের মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনকে। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদল নেতা মোকলেসুর রহমান, মো. ফারুক ও মাসুদ রানাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে হরিপুরের মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে শুরু হয়। নিয়োগ বোর্ডে কলেজটির অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলী ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রেজা হাসান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ওই নিয়োগ পরীক্ষায় চারজন পুরুষ ও চারজন নারী পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। এ সময় ইউএনওকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জামাল উদ্দিনের নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা কলেজের অধ্যক্ষ ও বোর্ড প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে জামাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে গিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ এবং নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধি মোতাহারা পারভীনকে থানার ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনেন। এ সময় তাঁরা মামলা না করতে হুমকি দেন। পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে জামাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা সেখান থেকে সরে যান।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল ইউএনও নিয়োগের জন্য টাকা নিয়েছেন। এটার প্রতিবাদ করতে ছেলেরা সেখানে গিয়েছিল। তখন ইউএনও তাদের পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখান। তারা বিষয়টি জানালে আমি সেখানে যাই। নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। আমার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ওই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।’
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। শনিবার (১৪ মার্চ) তিনি কর্মস্থলে ফিরছেন এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


