ব্যালটপত্রে ত্রুটির অভিযোগ ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন গণনার মাঝপথে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মালেক মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভোট গ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম বন্ধ করেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মালেক বলেন, ‘একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ব্যালটে কোনো ত্রুটি ছিল না, তবে আমাদের কাজের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ প্রয়োজন।’
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। সমিতির মোট ভোটার ছিলেন ৬৮৯ জন। এর মধ্যে ৬৫৪ জন সদস্য তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে রাতের দিকে ভোট গণনা শুরু হয়।
আইনজীবীদের একাংশ জানান, রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রায় ২২৫টি ভোট গণনা করা হয়। এ সময় সিনিয়র সহসভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, ভোটারের ব্যালটপত্র ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর থাকায় ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি ভোট গ্রহণ ও নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানান। সভাপতি পদপ্রার্থী আবদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আনিসুর রহমানও মৌখিকভাবে একই দাবি জানান।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
ঘটনার সময় আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হইচই দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকিব উর রাজার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন।
এ নির্বাচনে সভাপতি পদে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতি আবদুর রহমান এবং মফিজুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। এছাড়া অন্যান্য পদেও একাধিক প্রার্থী অংশ নেন।
সভাপতি পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান বলেন, কোনো সমস্যা ছিল না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট গণনার সময় নির্বাচন স্থগিত করেছেন, যা বিধিবহির্ভূত এবং সম্মানহানি করেছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মালেক বলেন, ‘সারা দিন আমরা নির্বাচন করেছি। আমরা প্রায় ২০০ ভোট গণনা করেছি। একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছি। তাঁরা বলেছেন, ব্যালটের ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল না। আমাদের কাজ করার পরিবেশ থাকতে হবে। ভোট গণনার কোনো পরিবেশ ছিল না। এটা কোনো ত্রুটি নয়।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকিব উর রাজা বলেন, সব ব্যালট সিলগালা করে আইনজীবীদের জিম্মায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সিএ/এমই


