ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভোট গ্রহণ চলাকালীন সময়ে বড় ধরনের অনিয়ম চোখে না পড়লেও ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রচারের মাঝামাঝি সময়েই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে খুলনা নগরের একটি অভিজাত হোটেলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটের দিন পরিবেশ উৎসবমুখর ছিল। মানুষ বাধাহীনভাবে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার আগে যে রহস্যময় বিরতি তৈরি হয়েছে, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আসন থেকে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকার খবর আসছিল, হঠাৎ ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, অল্প ভোটের ব্যবধানে থাকা বেশ কয়েকটি আসনে ওপর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি আসনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা আগে জামায়াত করেননি বা দাঁড়িপাল্লার স্লোগানও দেননি, এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কিছু অবস্থান সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে তার দল সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করবে। অন্যায় দেখলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই প্রতিবাদ জানানো হবে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাঁকে ও মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতকে হারানো হয়েছে। এর প্রমাণ তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে পেয়েছেন।
ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাস্টার শফিকুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
সিএ/এমই


