জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন পদত্যাগ করেছেন। এটি ঘটে জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমার পদত্যাগের পাঁচ দিন পর। রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ সোমবার এক বিশেষ সভায় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পরে পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা জানান, ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার ৮৭ সদস্যের কমিটি ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগী নেতারা বলেন, তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটের কারণে দলটি তার স্বকীয়তা ও আদর্শ থেকে সরে গেছে বলে মনে করেছেন তারা। তাদের বর্তমান আদর্শিক অবস্থান দলের অবস্থানের সঙ্গে মেলেনি, তাই তারা সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অসিম চাকমা বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে সেই আদর্শকে লালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ থেকে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের চাপে পদত্যাগ করা হয়নি।
রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে পদত্যাগের খবর পেয়েছেন। তবে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কমিটি অনুমোদিত ছিল, তাদের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা নেই।
মনজিলা সুলতানা আরও বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে পদত্যাগ হতো, তবে নির্বাচনের আগে করত। তাই আমরা ধারণা করছি কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই।’ তিনি জানান, গণপদত্যাগে সাংগঠনিক কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়বে না এবং নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে।
সিএ/এমই


