রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আলাউদ্দিন (৬৫) স্থানীয় মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। তাঁকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, তিনি দলটির সমর্থক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের নামাজে কে ইমামতি করবেন, তা নিয়ে সন্ধ্যার পর মডেল মসজিদে মুসল্লিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এ সময় আলাউদ্দিনের ছেলেদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন কর্মীর কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবদুল আউয়াল বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলাউদ্দিন সেখানে গিয়ে তাঁর ছেলেদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, এ সময় বিএনপির কর্মীরা আলাউদ্দিনকে ফেলে দিয়ে তাঁর বুকের ওপর উঠে বসেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আবদুল আউয়াল আরও দাবি করেন, আলাউদ্দিনের পুরো পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনি নিজেও দলটির কর্মী ছিলেন।
তবে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা তথ্য পাচ্ছি, তা হলো আলাউদ্দিন বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে তাঁর ছেলেরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। দুপক্ষের কথা–কাটাকাটি বন্ধ করতে গিয়ে আলাউদ্দিন স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর রাতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। ঘটনার পর তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে গেছেন।’
এ ঘটনার পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কিছু সময়ের জন্য রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিএনপির এক কর্মীর একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর মোহনপুরের কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি জামায়াতের কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে। পরে রাত ১১টার দিকে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর ছেলেরা জামায়াতের রাজনীতি করেন।
সিএ/এমই


