লোকজ সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত পালাকার ও লোকসংগীতশিল্পী ইসলাম উদ্দিনকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুভেচ্ছাস্মারক প্রদান করেছে। আজ শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের নোয়াবাদ ইউনিয়নের দর্গাভিটা বাজারে ইসলাম উদ্দিনের কার্যালয়ে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির উপস্থিত ছিলেন।
ইসলাম উদ্দিনকে ২০২৬ সালে নাট্যকলা বিভাগে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে তিনি পদক গ্রহণ করেন।
এনসিপি নেতা খায়রুল কবির বলেন, ‘ইসলাম উদ্দিনের কণ্ঠে শুধু সুর নয়, আছে গ্রামের ইতিহাস, মানুষের সুখ–দুঃখ। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি পালাগানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছেন। একুশে পদক তাঁর প্রাপ্য সম্মান।’
ইসলাম উদ্দিনের শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মঞ্চে ওঠেন। পরে বিখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতির শিষ্য হন এবং ‘কিচ্ছাগান’ রপ্ত করেন। ১৯৮৯ সালে নিজের পালাগানের দল গঠন করেন। তিনি দেশীয় সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়েছেন বিদেশেও, ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে পালাগান করেছেন, এছাড়া ফ্রান্স ও ভারতের মঞ্চেও গানের পরিবেশনা করেছেন।
ইসলাম উদ্দিনের জনপ্রিয় পালাগানের মধ্যে রয়েছে ‘কমলা রাণীর সাগর দিঘি’, ‘জাহাঙ্গীর বাদলা’, ‘মতিলাল’, ‘রূপকুমার’, ‘উথুলা সুন্দরী’, ‘কাকাধরের খেলা’, ‘আমির সাধু’, ‘সুন্দর মতি’, ‘রাম বিরাম’, ‘ফিরোজ খাঁ’সহ আরও অনেক।
পদক প্রাপ্তির পর ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘এই সম্মান আমার একার নয়, এটি গ্রামের সবার। পালাগান আমার কাছে বহু কষ্টের ধন। আমি চাই, এটি বিলুপ্ত না হয়ে টিকে থাকুক।’
সিএ/এমই


