নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতের গুলিতে মো. হেদায়েতুল্লাহ (২২) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ফকিরেরচর গ্রামের কাছে মেঘনা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হেদায়েতুল্লাহ রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে জানিয়েছে স্বজনেরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে হেদায়েতুল্লাহ তাঁর চাচা চানু মিয়ার সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। রাত প্রায় ১২টার দিকে একটি স্পিডবোট তাঁদের নৌকার কাছে এসে থামে। স্পিডবোটে থাকা একদল ডাকাত দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসে।
ডাকাতদের উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে হেদায়েতুল্লাহ ও চানু মিয়া নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় ডাকাত দল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চানু মিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও হেদায়েতুল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যান।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিনভর স্থানীয় লোকজন নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ জেলের খোঁজ চালান। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলের কাছেই নদীতে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে তীরে আনা হয়। খবর পেয়ে রায়পুরা থানার অধীন মির্জারচর নৌ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
নিহতের চাচা চানু মিয়া বলেন, ‘ডাকাত দলের হঠাৎ হামলা আমাদের দিশাহারা করে দিয়েছিল। আমরা দুজনই নদীতে ঝাঁপ দিই। তখনই তারা আমাদের দিকে গুলি করে। স্পিডবোটে তারা পাঁচজন ছিল। আমার ভাতিজা হত্যার বিচার চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন জানান, লাশ উদ্ধারের পর দেখা যায় ডাকাতদের ছোড়া গুলি হেদায়েতুল্লাহর বাঁ কানে, ঘাড়ে ও গালে লেগেছিল। দরিদ্র এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। রাত জেগে নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বলেন, নিহত জেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সিএ/এমই


