চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যাপকভাবে জাটকা ও ইলিশ নিধন চলছে। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকালে ষাটনল, মোহনপুর, নাওভাঙা, জয়পুর, আমিরাবাদ, এখলাশপুর, ছটাকী ও শিকিরচর এলাকায় নদীর মাঝখানে একাধিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, জেলেরা গভীর রাতে বা ভোররাতে ইলিশ ও জাটকা নিধন করছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য হওয়ার পেছনে জেলেদের আড়তদার ও মহাজনরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তারা জেলেদের জাল, ট্রলার, ডিজেল ও খাদ্য খরচসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন। বিনিময়ে জেলেরা কিছু মাছ ও নগদ টাকা পান। স্থানীয় একাধিক স্কুলশিক্ষক জানিয়েছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এ অবৈধ ব্যবসা চলমান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলা থেকে হাইমচর উপজেলা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় এবং পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জাটকা ও ইলিশ নিধন ছাড়াও বিক্রি, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণও নিষিদ্ধ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, জেলেরা মহাজন বা আড়তদারের চাপের কারণে নদীতে জাটকা ও ইলিশ ধরছেন। জাল ফেলে সহজেই অনেক মাছ পাওয়া যায় এবং গোপনে বিক্রি করে ভালো আয় হয়। মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেঘনায় জাটকা রক্ষায় প্রতিদিন সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। গত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১৪টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ১০০ কেজি জাটকা, ১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং তিনটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। ২২ জেলেকে আটক করে ছয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উপজেলার নিবন্ধিত ৫ হাজার ১৫০ জেলের প্রত্যেককে মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে।
সিএ/এমই


