সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন ও ঈদের বোনাস পরিশোধ, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন পোশাকশ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে সাভারের আশুলিয়ায় আয়োজিত এক সভা ও শোভাযাত্রা থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে আশুলিয়ার ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) এলাকার হাসেম প্লাজার সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সেখান থেকে একটি শোভাযাত্রাও বের করা হয়।
শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে—সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে বেতন, বোনাস ও সব বকেয়া পরিশোধ করা, বন্ধ কারখানা দ্রুত খুলে দেওয়া, নারী শ্রমিকদের জন্য ছয় মাস সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শ্রমিকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
আয়োজক সংগঠনের নেতারা জানান, আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শুক্রবার সকালে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকেই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা হাসেম প্লাজার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির নারীবিষয়ক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার। এছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং গণসংহতি আন্দোলন আশুলিয়া শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী রোকনুজ্জামান মনি প্রমুখ বক্তব্য দেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হাতে ‘ঈদের আগে বেতন-বোনাস, বকেয়া চাই’, ‘সবেতন ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি চাই’, ‘বন্ধ কারখানা খুলে দাও’, ‘শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো’—এমন বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
সভা শেষে একই স্থান থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগরমুখী লেন ধরে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হলেও দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এখনো ছয় মাস সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর হয়নি। প্রয়োজনে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং মালিকপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই ছুটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও মানসম্মত ডে–কেয়ার কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, আশির দশক থেকে পোশাকশিল্পে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসলেও তারা এখনো নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অভ্যুত্থান–পরবর্তী শ্রম সংস্কার কমিশন ও টিসিসির মাধ্যমে শ্রম অধ্যাদেশ ২০২৫–এ নারী-পুরুষ শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠন, কর্মক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা ও অভিযোগ সেলসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত হয়েছে এবং প্রায় ১২৫টি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, ইপিজেড ও এর বাইরে প্রায় তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ থাকায় বহু শ্রমিক বেকার অবস্থায় রয়েছেন এবং তারা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বন্ধ কারখানা দ্রুত চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার ও মালিকপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সময় এটি প্রথম ঈদ। শ্রমিকেরা যেন পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৯ মার্চের মধ্যে বেতন এবং ১২ মার্চের মধ্যে বোনাসসহ সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
সিএ/এমই


