খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় মৌসুম শুরুর আগে আমগাছ কেটে ফেলছেন চাষিরা। জেলা সদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের তুন্যমাছড়া ও পেরাছড়া এলাকা এমন উদাহরণ। গাছে ইতিমধ্যেই মুকুল ফোটেছে এবং কোথাও ছোট ফল ধরেছে। তবু চাষিরা গাছ কাটছেন। তাঁদের দাবি, সড়কে অতিরিক্ত টোল আদায় ও পরিবহন জটিলতার কারণে আমের ন্যায্য মূল্য পান না, তাই তারা বিকল্প ফল বা সবজি চাষের জন্য গাছ সরাচ্ছেন।
জ্ঞান জ্যোতি চাকমা বলেন, তার বাগানে ১,২০০ আমগাছ কেটে ফেলেছেন। প্রতি মৌসুমে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায়, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও বাজার ফান্ডে অতিরিক্ত টোল দিতে হয়। এর ফলে লাভের পরিবর্তে খরচই উঠে আসে না। একই কারণে অনেক চাষি বাধ্য হয়ে গাছ কাটছেন।
জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪,৫৯০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। গত বছর ৬২,১৭৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল। রাংগুই ও আম্রপালি জাতের আমের চাষ বেশি। কিন্তু অতিমূল্য, শ্রমিক সংকট ও পরিবহন সমস্যার কারণে বাণিজ্যিক চাষ কমছে।
চাষিরা উল্লেখ করেন, আম পরিবহনের পথে একাধিক স্থানে টোল দিতে হয়। জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও বাজার কমিটি বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করে। এই অতিরিক্ত খরচ পাইকারদের ওপর চাপ তৈরি করে, ফলে তারা কম দামে আম কিনতে আসে।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “চাষিরা গাছ কাটছেন—এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। চাইলে আমরা গাছ না কাটার পরামর্শ দিতাম এবং বিকল্প চাষের পরামর্শ দিতাম।”
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, চাঁদা ও অতিরিক্ত টোল নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে এবং অভিযান চলবে।
সিএ/এমই


