মাদারীপুর সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণ, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সময় অন্তত ২০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলায় পাঁচটি বসতঘর, দুটি দোকানঘর ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। একটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিব হাওলাদার (৩৫), তাঁর মা হাসিয়া বেগম (৬০), মকবুল হাওলাদার (৬০), নাসির হাওলাদার (৪৫), জাকির হাওলাদার (৪২) ও ইদ্রিস হাওলাদার (২৫)। তাঁদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার ও ইদ্রিস হাওলাদারের সঙ্গে শামচু সরদার ওরফে কোপা শামচুর দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। ছয় মাস আগে একটি বিস্ফোরক মামলায় র্যাব শামচু সরদারকে গ্রেপ্তার করেছিল। জামিনে বের হয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর হাওলাদার বংশের সঙ্গে তাঁর পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই সংঘর্ষে রিফাত হাওলাদার নামে এক যুবক আহত হন।
মঙ্গলবার বিকেলে রিফাতকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে শামচু সরদার মস্তফাপুর এলাকায় গেলে তাঁকে ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগ। এর পরপরই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো হয়। পরে বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে ইফতারের আগে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার বলেন, ‘শামচু সরদার আধিপত্য দেখাতে ৩০০ থেকে ৪০০ লোক নিয়ে এসে বিনা উসকানিতে বোমাবাজি করে আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে সব তছনছ করে দিয়েছে। লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তাদের বাধা দিতে গেলে আমাকে, আমার মা ও ভাইকে মারধর করেছে। আমার ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে। আমাদের এখন থাকার জায়গাটা পর্যন্ত নেই। যখন তারা হামলা চালাতে আসে তখন বারবার পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে জানিয়েছি। তারা হামলার পরেও আমাদের বাড়িতে আসেনি। কার কাছে এ ঘটনার বিচার চাইব?’
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি মিজু হাওলাদার বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবু আমার দোকানের শাটার কুপিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমার ক্ষতি করে কার কী লাভ হলো জানি না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে শামচু সরদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর চাচাতো ভাই সোহরাব সরদার বলেন, ‘ছোটরা ধাওয়াধাওয়ি করেছে। সংঘর্ষে আমরা তো কেউ যাইনি। তবু আমাদের টানা হচ্ছে। আর হাবিবের ঘরে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর লুটপাটের বিষয় আমাদের কিছু জানা নেই। এটা তারা নিজেরা করে আমাদের নামে ষড়যন্ত্র করে অভিযোগ দিচ্ছে।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুই পক্ষ এর আগেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল এবং উভয় পক্ষই জামিনে এলাকায় ফিরেছে। বুধবার সকালে প্রথমে ছোটদের মধ্যে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে এক পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অন্য পক্ষের বাড়িঘরে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের ১৪টি শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে।
সিএ/এমই


