রাজশাহীতে ছিনতাইয়ের শিকার একজন নারী জঙ্গল, ড্রেনসহ বিভিন্ন সন্দেহজনক স্থানে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। আজ বুধবার সকালে রাজশাহী নগরের ভদ্রা ফ্লাইওভারের নিচে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
রিপা বেগম নামের এই সৌদিপ্রবাসী নারী নিজ উদ্যোগে ছিনতাইকারীকে টাকা দিয়ে কাগজপত্রগুলো ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু ছিনতাইকারী তা গ্রহণ করেননি। পরে পুলিশ খোয়া যাওয়া কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করলেও এতে তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মেলেনি। তাই তিনি গত তিন দিন ধরে ঘটনাস্থলের আশপাশে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাতেই রিপা বেগম রাজশাহী নগরের ভদ্রা ফ্লাইওভারের নিচে ছিনতাইকারীর শিকার হন। তিনি ঢাকা থেকে সৌদিতে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন। রাত প্রায় তিনটার দিকে বাস থেকে নেমে রিকশায় বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার সময় ছিনতাই হয়।
রিপা বেগমের বয়স ৩৭ বছর। তিনি নগরের কিসমত কুখন্ডী বুধপাড়া এলাকায় এক ছেলে, এক মেয়ে ও মায়ের সঙ্গে থাকেন। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। রিপা প্রায় দুই বছর সৌদি আরবে কাজ করেছেন এবং আট মাস আগে দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে আবার কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য ঢাকা থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে রাজশাহী এসেছিলেন।
আজ সকালে খালাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ফ্লাইওভারের নিচে এসেছিলেন। জঙ্গলের দিকে এবং ড্রেনের ভেতর খুঁজতে খুঁজতে প্রতিটি কাগজপত্র যাচাই করছেন। রিপা বেগম প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘তিন দিন ধরে আশপাশে কাগজপত্র খুঁজে বেড়াচ্ছি। শুধু মনে হয়, ছিনতাইকারী যদি এগুলো ফেলে যায়।’
রিপা বেগম জানান, যেখান থেকে তিনি রিকশায় উঠেছিলেন, সেটি বোয়ালিয়া থানার এলাকায়, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এজন্য বোয়ালিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুরো ঘটনা নগরের মতিহার ও চন্দ্রিমা এলাকার মধ্যে ঘটেছে। মতিহার থানার পুলিশ কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু কাগজও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, তাঁর হাতে সময় মাত্র আট দিন। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন ইতিমধ্যেই করেছেন। তবে সৌদি আরবের কার্ড না পেলে তিনি আবারও চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না। তাই প্রতিদিন কাগজপত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
আজ সকালে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ওই নারীর ব্যাগ উদ্ধার করেছি। আমরা বোয়ালিয়া থানার সঙ্গে যৌথভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা শুরু করেছি।’ বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, তারা ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীকে শনাক্তের চেষ্টা করছেন। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আজ সকাল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাননি।
সিএ/এমই


