বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বড় ধরনের ভুল ধরা পড়েছে। বোর্ডের অধীন নিবন্ধন করা ৩৮ হাজার ছাত্রের কার্ডে লিঙ্গের ঘরে ‘ফিমেল বা মেয়ে’ উল্লেখ করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে এমন ত্রুটি সামনে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে কলেজ ও বোর্ড কার্যালয়ে সংশোধনের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।
বোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৮১ হাজার ৮৩১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার ছয় মাস পর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং পরীক্ষা শুরুর কয়েক মাস আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হয়। আগামী জুনে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথমে ঝালকাঠি জেলার কয়েকটি কলেজে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় ভুলটি ধরা পড়ে। পরে অন্য জেলাতেও একই ত্রুটি শনাক্ত হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৩৮ হাজার ছেলে শিক্ষার্থীকে ভুলক্রমে মেয়ে বা ফিমেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী মঙ্গলবার বলেন, কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস ও অপারেটরের অসাবধানতার কারণে এই ভুল হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কৈফিয়ত তলব করার পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করে আবার মুদ্রণ করে দেওয়া হচ্ছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভুলটি পরীক্ষার আগে ধরা পড়ায় এখন সমাধান করা সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করাতে পারছে। এখানে কোনো হয়রানির সুযোগ নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে।
তবে কয়েকটি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বলছেন, বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ছোট ভুল মনে হলেও এর প্রভাব কম নয়। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দূরবর্তী জেলা ও উপজেলার শিক্ষার্থীদের বোর্ডে আসতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি এত সংখ্যক রেজিস্ট্রেশন কার্ড নতুন করে মুদ্রণ করতে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে।
বরগুনা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ ইসলাম বলে, ‘রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ভুল ধরা পড়ার পর আমরা দ্রুত কলেজে ছুটে যাই। কলেজ থেকে বোর্ডে কথা বলা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করে দেবে বলে আমাদের জানিয়েছে। এখন বুঝতে পারছি না, কীভাবে কী হবে।’
শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ড মুদ্রণের জন্য বোর্ডের নিজস্ব প্রিন্টার ছিল। করোনা মহামারির সময় প্রিন্টারের কালি শেষ হওয়ার পর তা আর সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে গত তিন–চার বছর ধরে ঢাকায় গিয়ে কার্ড মুদ্রণ করে আনতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য ব্যয়ভার বোর্ডকে বহন করতে হচ্ছে।
বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানোয় তারা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল। নতুন করে কার্ড ছাপাতে অর্থ ব্যয় হবে। সেটি কোনোভাবেই কলেজের ওপর চাপানো যাবে না, বোর্ডকেই তা বহন করতে হবে।’
সিএ/এমই


