পাবনা জেলা সদরের টেবুনিয়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) খামারে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদের আভা ছড়িয়ে আছে। সবুজ পাতার ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে, হাসছে সূর্যমুখী ফুল। এই নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন, কেউবা সূর্যমুখী চাষের তথ্য জানছেন।
বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এখানে বীজ উৎপাদনের জন্য সূর্যমুখী চাষ করা হচ্ছে। চলতি বছর ৬.৫ একর জমিতে বারি-৩ জাতের সূর্যমুখী চাষ করে ২,৬০০ কেজি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। দিনে দিনে বীজের চাহিদাও বাড়ছে।
পাবনা জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই খামারটি দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বিশাল হলুদ গালিচা বিছানো। বাতাসে দোল খাওয়া সূর্যমুখী ফুল দর্শনার্থীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে অনেকে ছবি তুলছেন, কেউ ফুল ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ একা সেলফি তোলায় ব্যস্ত।
শিক্ষক আবদুল খালেক তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “পাবনায় বিনোদনকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই সূর্যমুখী দেখতে এসেছি। ফুলের এই গালিচা দেখে পরিবারের সবাই খুব খুশি।”
জেলা থেকে আসা নীলা আক্তার ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারও ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ। সুমাইয়া বলেন, “একসঙ্গে এত ফুল কোনো দিন দেখিনি, মন-প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। খুব ভালো লাগছে।”
বিএডিসির উপপরিচালক শহীদ আহম্মেদ জানান, ফেসবুকে সূর্যমুখী বাগানের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ ফুল দেখতে আসছেন। কেউ চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সিএ/এমই


