শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে মাদক ও জুয়ার আসরের ছবি তোলার জেরে নয়ন দাস নামে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের মলংচরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে, যা শনিবার (৬ ডিসেম্বর) নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।
গোসাইরহাট থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি নাগেরপাড়া ইউনিয়নের মলংচরা এলাকায় মাদক ও জুয়ার আসর বসেছে—এমন খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে যান। তাঁরা ভিডিও ও ছবি ধারণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। পরে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা পোস্টের শরীয়তপুর প্রতিনিধি নয়ন দাসকে নাগেরপাড়া বাজারে একা পেয়ে আটক করেন অভিযুক্তরা। কয়েকজন মিলে তাঁকে মারধর করে আহত করেন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, একটি জুয়া ও মাদকের আসরের ছবি তোলার অভিযোগ এনে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। ওই সাংবাদিক চারজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) নয়ন দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার পর সাইদুল আকন, মনির জমদ্দার, নজরুল কাজী ও লিখন কাজী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিক নয়ন দাস বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি মাদক ও জুয়ার আসরের ছবি তুলতে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়ার আসর চালানো ব্যক্তিরা আমাকে আটক করেন। তাঁরা আমার ক্যামেরা, মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এরপর এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন। পিটিয়ে আহত করে ফেলে রেখে যান। স্থানীয় ব্যক্তিরা আমাকে বাঁচান। ওই হামলাকারীদের যাঁদের আমি চিনতে পেরেছি, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
সিএ/এমই


