রংপুরের তারাগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে তারাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হোসেন (৪৫) তিন দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত বুধবার স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, পাশের ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় একটি তামাকখেতে রক্তের দাগ ও এক জোড়া জুতা পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জুতাটি মঞ্জুরুলের বলে শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঝাকুয়াপাড়া মাঠে লাশের খোঁজ শুরু করেন। দুপুরের দিকে রামপুরা মাজারসংলগ্ন একটি আলুখেতের এক কোণে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, নিহত মঞ্জুরুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাঁরা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দাবি করেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, ‘মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। বিচারের আশ্বাস পেয়ে তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান।’
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘মঞ্জুরুলের স্ত্রী জান্নাতি বেগম তারাগঞ্জ থানায় আজ একটি হত্যা মামলা করেছেন। আমরা গুরুত্বসহকারে মামলাটি তদন্ত করছি। দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে।’
সিএ/এমই


