সুনামগঞ্জ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের পাগলাবাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্যবাহী ট্রাক নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়। আগাম প্রচার না থাকায় অনেক ক্রেতা বিক্রির খবর জানতে পারেননি। কেউ টাকা জোগাড় করতে পারলেন না, কেউ ধার করে পণ্য কিনতে বাধ্য হন।
গতকাল বিকেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলাবাজারে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির সময় এই পরিস্থিতি দেখা যায়। রমজান উপলক্ষে জেলার ১২টি উপজেলায় ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা দুই লিটার সয়াবিন ২৩০ টাকা, দুই কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, এক কেজি ছোলা ৬০ টাকা, এক কেজি চিনি ৮০ টাকা ও আধা কেজি খেজুর ৮০ টাকায় কিনতে পারছেন। মোট খরচ হচ্ছে ৫৯০ টাকা। প্রতিদিন একজন ডিলার ৪০০ জনের কাছে পণ্য বিক্রি করেন। সুনামগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন দুই হাজার লোকের কাছে এসব পণ্য পৌঁছে।
টিসিবি ট্রাক সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে বেলা দুইটায় পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু বিকেল সাড়ে চারটায় পৌঁছায়। ট্রাক আসার পর স্থানীয়রা তাড়াহুড়া শুরু করেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কয়েকজনকে আগাম জানিয়ে রাখলেও সাধারণ মানুষ খবর পাননি।
ডিলার রুবেল আহমদ জানান, পণ্য উত্তোলন করতে হয় শেরপুরে টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে। পণ্য উত্তোলন ও প্যাকেট করার কারণে ট্রাক দেরিতে পৌঁছায়। ট্রাক আসার পর ইউপি চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার নিজে মানুষের ভিড় সামলান এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিক্রি সম্পন্ন করেন।
স্থানীয়রা মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। কেউ খুশি, কেউ অভিযোগ করেছেন যে ইফতারের আগ মুহূর্তে পণ্য আসায় ঝামেলা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “মানুষ অযথাই বিশৃঙ্খলা করছে, আমি সরাসরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে পণ্য বিক্রি শেষ করেছি।”
টিসিবি সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, প্রতিদিন দুই হাজার মানুষের কাছে ভর্তুকিমূল্যে পাঁচ ধরনের নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদারক করছে।
সিএ/এমই


