শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ নুরুল আমীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন করেছেন। আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে ভোজেশ্বর-ভেদরগঞ্জ সড়কে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন তারা। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান প্রতিবাদকারীরা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপসী এলাকায় প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। তিনি নশাসন এলাকার বাসিন্দা এবং নশাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। মারধরের ফলে প্রধান শিক্ষকের ডান হাত ভেঙে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর নুরুল আমীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ চলছিল। তিনি গতকাল বিদ্যালয়ের কাজ শেষে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। উপসী তিন দোকান এলাকায় পৌঁছালে ৮ থেকে ১০ জন তাঁর অটোরিকশা আটকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী স্লোগান দেন। শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানান। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, ‘একজন শিক্ষক রাস্তায় চলতে গিয়ে আক্রান্ত হবেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। নির্দয়ভাবে পিটিয়ে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং দ্রুত বিচার চাই।’
হামলায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মিজানুর রহমান সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। কারা হামলা করেছেন, জানি না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার নামে অপপ্রচার করা হচ্ছে।’ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম খান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী মামলা করলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


