বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও কাগজপত্র তছনছের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে আদালত চত্বর থেকে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ‘আজ আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে তাঁর চেয়ার থেকে তুলে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বর্তমানে সমিতির সভাপতিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।’
বিক্ষোভরত আইনজীবীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন—‘সভাপতিকে মুক্তি দিতে হবে, দিয়ে দাও’, ‘অবৈধ গ্রেপ্তার, মানি না মানব না’, ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই কর’। তারা সমিতির সভাপতির মুক্তির দাবি জানিয়ে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা, সহ সভাপতিসহ কয়েকজন আইনজীবী, হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এজলাসে ঢুকে বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি এবং চিৎকার করার পাশাপাশি কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ মামলার শুনানি পরিচালনা করছেন, এ সময় আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা ও আদালত পুলিশের তিন কনস্টেবল উপস্থিত ছিলেন।
সদস্যরা দরজা খুলে চিৎকার করতে করতে এজলাসে প্রবেশ করেন। সাদিকুর রহমান বিচারকের সামনে গিয়ে চিৎকার করেন, আঙুল তুলে কথা বলেন এবং একটি বেঞ্চে আঘাত করেন। পরে তাঁরা এজলাস ত্যাগ করেন।
এর আগে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেন, কারণ আদালত আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুর করেছিল। তারা আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালান।
গতকাল আদালতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস জামিন পান। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল–৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজন নেতা জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খানও জামিন পান।
সিএ/এমই


