চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন মোড়, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবারও বিলবোর্ড বসানো শুরু হয়েছে। কাজীর দেউড়ি মোড়, স্টেডিয়াম এলাকা, গোলপাহাড় মোড়, প্রবর্তক মোড়, লালখান বাজার, নিউমার্কেট, টাইগারপাস, জিইসি মোড়সহ নগরের বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল ও সাধারণ বিলবোর্ডের কাঠামো চোখে পড়ছে। নগরবাসীর অভিযোগ, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনরা এই বিলবোর্ড স্থাপনের সঙ্গে জড়িত।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে একটি অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করলেও এরপর কোনো অভিযান হয়নি। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞাপনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) এক্সপ্রেসওয়েতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে সিডিএর ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, কোনো বিলবোর্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণে অভিযান শুরু হয়েছে এবং সব ধরনের বিলবোর্ড দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, নগরের কোথাও কাউকে কোনো ধরনের বিলবোর্ড বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নগরের লালখান বাজারে সরকারি অফিসার্স কলোনির পাশে চারতলা হাইওয়ে প্লাজার দেয়াল ও ছাদে গত বছরের মে মাসে নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির দুটি ব্যানার টানানো হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে দুটি বড় বাণিজ্যিক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিপরীত পাশে আরও একটি বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। তবে লালখান বাজারে বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়টি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি অস্বীকার করেছেন।
কাজীর দেউড়ি মোড়ের দুই পাশে ডিজিটাল ও সাধারণ বিলবোর্ডের অবকাঠামো বসানো হয়েছে। অ্যাপোলো শপিং কমপ্লেক্সের পাশে ডিজিটাল বিলবোর্ডে চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের প্রচার চলেছিল। সার্কিট হাউসের পাশের বিলবোর্ডটি নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আলিম স্বপন এবং ডিজিটাল বিলবোর্ডটি একজন সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোলপাহাড় মোড় ও প্রবর্তক মোড়েও ছাত্রদল-যুবদলের নেতা ও কর্মীরা বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করেছে সিডিএ। শহীদ ওয়াসিম আকরাম ফ্লাইওভার হিসেবে পরিচিত এই এক্সপ্রেসওয়েতে লালখান বাজার থেকে আগ্রাবাদ মোড় পর্যন্ত নিচের অংশে ৫০টি আলোকিত সাইনবোর্ড স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সিটি করপোরেশন। নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির স্ত্রী নিহার সুলতানার প্রতিষ্ঠান জেএম পাবলিসিটির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ না হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করায় সিডিএ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নগর–পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন জানিয়েছেন, নগরে কোনো শৃঙ্খলা নেই। যত্রতত্র বিলবোর্ড বসানো হচ্ছে, যা দৃশ্য দূষণ সৃষ্টি করছে। যাঁরা অনুমোদন দিচ্ছেন, তাঁদের কাজ নগরবাসীর জন্য ক্ষতিকর। এভাবে চললে নগর বসবাসযোগ্য থাকবে না।
সিএ/এমই


