ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুই পাশ দখল করে গাছের গুঁড়ি রেখে ব্যবসা করছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত মহাসড়ক দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের কুলচারা থেকে চড়িয়ারবিল বাজার পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি পয়েন্টে সড়কের ওয়াকওয়ে ও পাশের অংশজুড়ে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। চড়িয়ারবিল বাজার, গাড়াগঞ্জ বাজার, ভাটই বাজার, চাঁদপুর মোড় ও কুলচারা মোড় এলাকায় এই চিত্র বেশি স্পষ্ট। এসব স্থানে কাঠ ক্রয়-বিক্রির কার্যক্রমও চলছে মহাসড়কের ধারে।
চড়িয়ারবিল বাজার এলাকার ভ্যানচালক সাহেব আলী বলেন, এই সড়ক দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে খুলনা ও মংলা বন্দরগামী দূরপাল্লার যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। পাশাপাশি স্থানীয় ছোট যানবাহনও সড়কের পাশ ঘেঁষে চলাচল করে। কিন্তু আনসার উদ্দিন মাস্টারের স মিলের পাশসহ কয়েকটি স্থানে মহাসড়কের দুই পাশে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
জ্বালানি কাঠ বিক্রেতা হাশেম আলী জানান, তিনি গ্রাম থেকে গাছের ডালপালা ও ছোট গাছ কিনে এনে মহাসড়কের পাশেই সাজিয়ে রাখেন এবং সেখানেই বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই, আনসার উদ্দিন মাস্টারের স মিলের আশপাশে মহাসড়কের ধারে অন্তত ২০ জন কাঠ ব্যবসায়ী তাঁদের কেনা গাছের গুঁড়ি ফেলে রেখেছেন। কেউ এখানে রাখতে নিষেধ করেনি, তাই আমরা এখানেই রাখি।’
কাঠ ব্যবসায়ী লাভলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা মিলকেন্দ্রিক। তাই মিলের আশেপাশে মহাসড়কের ধারেই গাছ কিনে এনে রাখি। এখান থেকেই বিক্রি হয়ে যায়।’ তিনি স্বীকার করেন, গাছের গুঁড়ি রাখার কারণে সড়কে চলাচলে ঝুঁকি রয়েছে, তবে কেউ বাধা না দেওয়ায় তারা এভাবেই কাঠ রাখছেন।
দুই বছর ধরে আনসার উদ্দিনের স মিলটি লিজ নিয়ে পরিচালনা করছেন আতিয়ার নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি লিজ নিয়ে মিলটি চালাচ্ছি। আগে থেকেই এখানে রাস্তার ধারে এভাবে গাছের গুঁড়ি রাখা হতো। মিলের মধ্যেও যতটুকু জায়গা, সেখানেই রাখা হয়। কাঠ ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভের কারণে এভাবে রাখেন।’
স্থানীয়রা জানান, চড়িয়ারবিল বাজার থেকে ঝিনাইদহের দিকে যেতে আবদুল গাফফারের স মিলের সামনেও একই অবস্থা। গাড়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে ঝিনাইদহের দিকে যেতে আফাজ উদ্দিন নামের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী রাস্তার ওপরেই গাছের গুঁড়ি ও জ্বালানি কাঠ রেখে দেন। আমরা নিষেধ করলেও শোনেন না।’
ভাটই বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও মহাসড়কের পাশ দখল করে কাঠ রাখার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কাঠ দেখে ফার্নিচারের অর্ডার করেন কাস্টমাররা। তাই সব ব্যবসায়ী এভাবে রাস্তার ধারেই গাছের গুঁড়ি রেখে দেন। তবে এভাবে রাখলে সড়কে ঝুঁকি হতে পারে, তা কখনো ভাবি নাই।’
ঝিনাইদহের আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘সড়কের ধারে গাছের গুঁড়ি বা অন্য যেকোনো জিনিস রাখা বেআইনি। এর কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের চড়িয়ারবিল বাজার পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি স্থানে এভাবে গাছের গুঁড়ি বা অন্যান্য জিনিস রাখা আছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুতই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যাত্রী ও চালকেরা।
সিএ/এমই


