ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট হট্টগোলকে কেন্দ্র করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় এ অবরোধের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হন রুমিন ফারহানা। তাঁর সঙ্গে কয়েক শ সমর্থক ছিলেন। সমর্থকদের কেউ কেউ এ সময় শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
এ সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। রাত ১২টা ১ মিনিট বাজার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিতে এগিয়ে যান রুমিন ফারহানা। একই সময়ে ফুল দিতে যান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য আনোয়ার হোসেন মাস্টার। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজনকে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠতে দেখা যায়। শহীদ মিনারে দেওয়া ফুলও ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় অবস্থান নেন। লাঠিসোঁটা হাতে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তাঁরা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। অবরোধ চলাকালে আনোয়ার হোসেন মাস্টারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত দেড়টার দিকে অবরোধকারীরা সরে দাঁড়ান। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, ‘শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে আমাদের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে দেখব বিষয়টি কী।’
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত দেড়টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-2 আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন রুমিন ফারহানা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। রুমিন ফারহানা আগে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি দলীয় পদ হারান।
সিএ/এমই


