আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্য চার দিনের মধ্যে শুল্কায়নের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রামে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সফরে এসে বন্দর, কাস্টমস ও ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে এবং পণ্য খালাসে গতি আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে আয়োজিত বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, পরিবহন খাতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, বর্তমানে আমদানি পণ্য বন্দরে চার দিন পর্যন্ত বিনা ভাড়ায় রাখা যায়। এর পর প্রতিদিনের জন্য ভাড়া গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুল্কায়ন ও খালাস নিশ্চিত করা গেলে এ অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের নিয়ে বৈঠকে অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন থাকায় কিছু সমস্যা সমাধানে কয়েক দিন সময় লাগবে। এসব সমস্যার সমাধান হলে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে। দ্রুত পণ্য খালাস হবে। পণ্য খালাস দ্রুত হলে খরচ কমে আসবে।
রোজাকে সামনে রেখে আমদানি পণ্য খালাসের ধীরগতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এখন রোজার যে পণ্যগুলো আছে সেগুলোর খালাসে ধীরগতি রয়েছে। এগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা খালাসের ব্যবস্থা করাচ্ছি, যাতে খরচ কম পড়ে, দাম না বাড়ে।’
বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আমিরুল হক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন জানান, পণ্যের নমুনা পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে শুল্কায়নে সময় লাগে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চার দিনের মধ্যে শুল্কায়ন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি এ প্রক্রিয়ায় যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রমে বিভিন্ন অংশীজনের নিজস্ব স্বার্থ জড়িত থাকায় স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে যে কার্যক্রম চলছে, সেটাই আজ দেশের দ্রব্যমূল্য বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নিত্যপণ্য নয়, শিল্পকারখানার কাঁচামালসহ দেশে আসা সব ধরনের পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিকভাবে অনেক সমস্যা আছে এখানে। প্রত্যেক অংশীজনের সঙ্গে বসে কিছু সমাধান আজকে দিতে পেরেছি। কিছু আলাপ–আলোচনা বাকি রয়েছে। এগুলো করব।’ বন্দরের বিদ্যমান সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের যে সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, বাজারের দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, বন্দর নিয়ে যে কর্মকাণ্ড চলছে, এটার সমাধান হবে ইনশা আল্লাহ।’
এর আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে নেতা–কর্মীরা ফুল দিয়ে স্বাগত জানান মন্ত্রীকে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানো—এ দুই বিষয়কে সামনে রেখেই আমরা এগোব।’
চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে এসেছে। একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার এসেছে। সব দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। সে জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
চট্টগ্রাম সফরে এসে নগরের উত্তর কাট্টলীতে পৈতৃক নিবাসে গিয়ে মা–বাবার কবর জিয়ারত করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জুমার নামাজের পর মেহেদীবাগের বাসভবনেও নেতা–কর্মীদের ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আশপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হলে তা সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
সিএ/এমই


