সিলেটে রোজার প্রথম দিনেই জমে উঠেছে ইফতারির বাজার। নগরের বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁ এবং ফুটপাতগুলোতে ইফতারসামগ্রী সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, শাহি ঈদগাহ, উপশহর, সোবহানীঘাট, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, পাঠানটুলা, মদিনামার্কেট, সুবিদবাজার, লামাবাজার, তালতলা ও কাজিরবাজারসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রেতারা ইফতারির প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
বিক্রেতারা জানান, রোজাদারদের মধ্যে চাহিদার শীর্ষে এবারও আখনি ও পাতলা খিচুড়ি। নগরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানেই নানা পদের ইফতারি রয়েছে। তবে আখনি ও পাতলা খিচুড়ির বিক্রি সবচেয়ে বেশি। কোথাও কোথাও পাতলা খিচুড়ির সঙ্গে ভুনা খিচুড়িও পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের ট্রাস্টি আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) বলেন, সিলেটের আখনি ঢাকার তেহারির মতো হলেও স্বাদে আলাদা। সুগন্ধি চাল ও মাংস দিয়ে রান্নার পদ্ধতি অনুরূপ হলেও সিলেটি আখনির স্বতন্ত্রতা রয়েছে। এই কারণে এটি ইফতারের সময় সবসময় রোজাদারদের পছন্দের শীর্ষে থাকে।
সিলেটে আগে ঘরোয়া পরিবেশে আখনি ও পাতলা খিচুড়ি তৈরি হতো, এখনো অনেক পরিবারে এ রীতি বজায় আছে। পাশাপাশি হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও এই দুটি পদের কদর রয়েছে। এক দশক ধরে সিলেটের ইফতারি বাজারে আখনি, ভুনা খিচুড়ি ও পাতলা খিচুড়ি সহ নানা উপাদেয় ও বৈচিত্র্যময় ইফতারি সরবরাহ করা হচ্ছে।
দোকানিরা জানান, প্রতি কেজি মাটন আখনি ৪৫০–৫০০ টাকা, বিফ আখনি ৩৮০–৪২০ টাকা, চিকেন আখনি ৩২০–৩৪০ টাকা, ভুনা খিচুড়ি ১৫০–১৭০ টাকা, পাতলা খিচুড়ি বড় বাটি ১২০ টাকা ও ছোট বাটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অভিজাত রেস্তোরাঁয় দাম এই দামের চেয়ে ১০০–১৫০ টাকা বেশি।
জিন্দাবাজার এলাকার পানসী রেস্টুরেন্টের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, রমজানের প্রথম দিনেই এখানে গড়ে ২০০ কেজি আখনি এবং ৫০ কেজি পাতলা খিচুড়ি প্রস্তুত করা হয়। রমজানের কয়েক দিন গেলে এ দুটি পদের চাহিদা আরও বেড়ে যাবে।
বন্দরবাজারের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তাদের দোকানে জিলাপি, ছোলা, চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু ও শাকের বড়া বিক্রি হলেও আখনি ও পাতলা খিচুড়ি সবচেয়ে বেশি ক্রেতাদের কাছে কদর পেয়ে থাকে।
সিএ/এমই


