পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে শবে বরাতের পর থেকেই চট্টগ্রাম নগরের বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হাড় ছাড়া ও হাড়সহ—দুই ধরনের গরুর মাংসেই কেজিপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ব্রয়লার মুরগি, মাছসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) নগরের ঝাউতলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাড় ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি এক হাজার টাকায় এবং হাড়সহ মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বাজারে দামে কিছুটা হেরফের রয়েছে। কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৩০ টাকা কমবেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বহদ্দারহাট বাজারে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে বিক্রি হলেও তা অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে বহদ্দারহাট বাজারে হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক মাস আগেও একই মাংসের দাম ছিল ৯০০ টাকা। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর নবী বলেন, কক্সবাজারে একটি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন তিনি। রোজায় কদিনের ছুটি নিয়ে এসেছেন। রোজার বাজার সেরেছেন আগে। তবে মাংস কিনতে এসে হতাশ। তাঁর ভাষ্য, রমজানে দাম কমার কথা, উল্টো বাড়ে।
নূর নবীর মতো আরও কয়েকজন ক্রেতা মাংসের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, শবে বরাতের পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে। নগরের অন্তত চারটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাড়সহ গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে তা ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে হাড়ছাড়া মাংস ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
বহদ্দারহাট, খাজা রোড, রাহাত্তারপুলসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। তবে রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায় ব্যক্তিগতভাবে গরু জবাই করে বিক্রির প্রবণতাও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে মাংস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সেখানে হাড় ছাড়া মাংস নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে হাড় ছাড়া মাংসের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কখনো ৭০০ টাকা, কখনো ৯৫০ টাকায় ওঠানামা করেছে। ২০২৪ সালেও দাম এক হাজার টাকা ছাড়িয়েছিল। উৎসব বা বিশেষ মৌসুমে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন—এমন অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। যদিও কিছু বিক্রেতার কাছে বাজারদরের তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেও মাংস বিক্রির নজির পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, খামারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ছে।
চট্টগ্রাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিবেদন ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে গরুর মাংসের জাতীয় গড় খুচরা দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩১৭ টাকা। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৯ টাকায়। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গড় দাম উঠে আসে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়। ২০২৫ সালে তা ৯০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির খবর পেলে আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি। রোজায় মাংস, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। কোথাও এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এমই


