খুলনায় নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আমাদের আমিরে জামায়াতসহ ১১–দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ইসিতে ৩২টি আসনের ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হয়েছে। জনগণ মনে করে, টেম্পারিং বা বিভিন্ন ম্যাকানিজম করে আমাদের হারানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের পরের রাতেই গেজেট প্রকাশ করে জনগণের সে ধারণাকে আরও গভীর করে তুলেছে। তাই নির্বাচনের এ ফলাফলে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল আটটার দিকে খুলনা জেলার ফুলতলার আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অভ্যুত্থান–পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচন ছিল একটি জরুরি বিষয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আমাদের দল আসন কম পেলেও ভোটের পার্সেন্টেজে আলহামদুলিল্লাহ অনেক এগিয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে সত্য, কিন্তু নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক আগে থেকেই চলে আসছে আমাদের দেশে।’
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর পরাজিতদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের সংস্কৃতি এখনো বন্ধ হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের দেশের একটা বাজে কালচার হলো নির্বাচনের পরে যারা পরাজিত হয়, তাদের ওপর জুলুম–নির্যাতন করা। ভেবেছিলাম অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসবে সবাই। কিন্তু আমরা দেখলাম সারা দেশে আমাদের কর্মী–সমর্থকের ওপর হামলা, বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব বিষয়ে নজর দেবেন এবং ঘটনার ইতি টানবেন। কিন্তু বিএনপির নেতা–কর্মীরা এখনো থেমে যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল রাতেও মশিয়ালীতে আমাদের কর্মীর বাড়িতে আগুন দিয়েছে, ডুমুরিয়ায় কিছু ঘটনার সংবাদ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। তবে পরিস্থিতি যদি বন্ধ না হয় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।’
ভোট পুনঃগণনার প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যেকোনো কাজের একটা সিস্টেম আছে। আমাদের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত দিয়েছে। ডিসি মহোদয় ভোট গণনা করে দিলেই তো সবার জন্য ভালো হয়। কিন্তু আইনের কিছু বিষয় রয়েছে। যেহেতু তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, সেহেতু এখন আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে মহামান্য আদালতের রায় সাপেক্ষে গণনা হবে। তাতে কিছু লেট হতে পারে। এ জন্য আপনারা বিচলিত হবেন না, ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন।’
উপজেলা জামায়াতের আমির আ. আলিম মোল্যার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি সাইফুল হাসান খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, গোলাম কুদ্দুস ও গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ ফকিরসহ অন্য নেতারা।
পরে সকাল ১০টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার শোলগাতিয়া মাদরাসায় এবং বেলা ১১টায় উপজেলার আঠারোমাইলে পৃথক নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে যোগ দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। এসব কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুখতার হোসাইন।
সিএ/এমই


