কুড়িগ্রাম উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থীরা। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই বিপুল ব্যবধানের জয়।
কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী): আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের সাইফুর রহমান রানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৫ ভোট। ১৭ হাজার ২৮৩ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী।
কুড়িগ্রাম-২ (সদর-ফুলবাড়ী-রাজারহাট): এ আসনে শাপলা কলি প্রতীকের ডা. আতিক মুজাহিদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৯ ভোট। অপর দিকে ধানের শীষের সোহেল হাসনাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৯ ভোট। ৯ হাজার ৫৩০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন শাপলা কলি প্রার্থী।
কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর): দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাহবুবুল আলম সালেহী ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৪ ভোট পেয়ে বিপুল জয় পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের তাসভীর উল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৭৮ হাজার ৪০৩ ভোট। এ আসনে ব্যবধান ২৬ হাজার ৮৯১ ভোট, যা জেলায় সর্বোচ্চ।
কুড়িগ্রাম–৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর): দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোস্তাফিজুর রহমান ৯১ হাজার ৪১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আজিজুর রহমান পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৩৫ ভোট। এ আসনে জয়ের ব্যবধান ২০ হাজার ৭৯ ভোট।
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে দাঁড়িপাল্লা এবং একটিতে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ব্যবধানের জয় প্রমাণ করে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা। এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন এই প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা।
রতন রায়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


