চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে দীর্ঘ ৫৪ বছরের এক রক্ষণশীল প্রথা ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নের নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে নিয়োগ করা হচ্ছে নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ শতভাগ নারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের মতে, ৭০-এর দশকে জৈনপুরের পীরের এক বিশেষ অনুরোধের পর থেকে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া বন্ধ করে দেন। দৈনন্দিন কাজে এমনকি হাট-বাজারেও নারীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও, গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ভোটদান থেকে তারা বিরত ছিলেন। হাতেগোনা কয়েকজন ভোট দিলেও ১০ হাজার ২৯৯ জন নারী ভোটারের বিশাল অংশটি এই গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের নির্দেশনায় এবার এই জড়তা ভাঙতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন,
পূর্ণাঙ্গ নারী টিম: ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের ২০টি বুথেই সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ সকল পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হবেন নারীরা।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্য হিসেবেও নারীরা দায়িত্ব পালন করবেন।
নারী ম্যাজিস্ট্রেট: ৮টি কেন্দ্রের জন্য আলাদাভাবে একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে যাতে পর্দার সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে।
নারী পোলিং এজেন্ট: প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগের জন্য চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নারীদের ধর্মীয় ও সামাজিক পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে আমরা নারীদের উৎসাহিত করছি। আশা করছি এবার তারা শতস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে আসবেন।”
৫ দশকের পুরোনো প্রথা ভেঙে এই অঞ্চলে ভোটাধিকারের নতুন সূর্যোদয় ঘটবে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো জেলাবাসী।
শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


