মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ প্রার্থী। শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব দাশড়া এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খানের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী সাজাহান হোসেন (প্রাইভেট কার) বলেন, ‘বিএনপির ভোট রয়েছে ৫ শতাংশ। এ কারণে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি সবাই বিএনপির প্রার্থীর ছাতার নিচে রয়েছে। তাঁদের দিয়ে সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান (সূর্যমুখী ফুল) অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির প্রার্থী আচরণবিধি মানছেন না। একটি ইউনিয়নে একটি করে নির্বাচনী ক্যাম্প করার নিয়ম থাকলেও বিএনপির প্রার্থীর প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে চার থেকে পাঁচটি করে ক্যাম্প রয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল বাশার (লাঙ্গল) বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী রঙিন পোস্টার ছাপানো নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির প্রার্থী তা মানেননি। ক্যালেন্ডার ছাপিয়ে সেগুলো বাড়ি বাড়ি ও বিভিন্ন দোকানে বিতরণ করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান (মোটরসাইকেল) বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয় জানার পরেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই প্রশাসন ব্যর্থ বলে আমি মনে করি। তাদের কাছে অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’
জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস (বাইসাইকেল) বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। সে জন্য এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আশা করব, সামনের দিনগুলোতে প্রশাসন দায়িত্বশীল হবে এবং সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেবে।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানমের পক্ষে জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য আ ফ ম নূরতাজ আলম বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও সম্পূর্ণ বানোয়াট। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি মেনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে পৃথকভাবে তা উত্থাপন করা যেত। পাঁচজন প্রার্থী একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ষড়যন্ত্রের অংশ। বিএনপি একটি বড় দল, যার অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সমর্থক রয়েছেন। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে, তবে সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষের সঙ্গেই আছেন।
সিএ/এমই


