গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের কড়ইতলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের আড্ডা বসেছিল। সাধারণত লেখাপড়া ও ছাত্ৰজীবনের নানা বিষয়ই আড্ডার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়, তবে এদিন প্রাধান্য পায় জাতীয় নির্বাচন। চার দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোট ও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
গাইবান্ধা সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাশফিহা খনম বলেন, ‘এ বছর প্রথম ভোট দেব। তাই আনন্দটাই আলাদা। প্রথমবার কেন্দ্রে যাব, এ জন্য নতুন জামা কিনেছি। এবার বড় একটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে ভোটের পরিবেশ এখনো ভালো মনে হচ্ছে। ভোটের দিন পরিবেশ এমন হলে আমি ও আমার বন্ধুরা অবশ্যই ভোট দিতে যাব।’
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা বলেন, ‘নতুন ভোটার হিসেবে আমি চাই, একটি নিরাপদ ভোটকেন্দ্র। আমার নিজের ভোট যদি গায়েবি পন্থায় আগেই না হয়ে যায়, তাহলে নিজের হাতে ভোট দিয়ে ভোটার হওয়াটা সার্থক করতে চাই।’
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শিথি রহমান বলেন, ‘প্রথম ভোটার হিসেবে একটি শান্তিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র দেখতে চাই। আমি যখন ভোট দিতে যাব, ওখানে যেন দলীয় রাজত্ব না চলে। আমি যেন নিরাপদভাবে কোনো ভয় ছাড়া ভোটটা দিতে পারি। এটাই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’
১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তারা বিভিন্ন ইশতেহার প্রকাশ করেছেন।
নতুন ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা নিরাপদ ভোটকেন্দ্র এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা রাখছেন। গাইবান্ধা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘ভোটাধিকার নাগরিকের অধিকার। যাঁরা দেশের দৃশ্যমান ভালো কাজ করেছেন, তাঁদের নেতৃত্ব দেওয়ার সহযোগিতা করার জন্যই ভোট দিতে যাব। এবার নির্বাচনে এমন নেতৃত্ব আসুক, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়।’
রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন ভোটার নিফাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার ভোটার হয়েছি। একধরনের উচ্ছ্বাস তো কাজ করছেই। গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি যিনি উন্নয়ন করতে পারবেন, যুবশক্তির কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি খামার গড়তে উৎসাহ দেবেন, তাঁকে ভোট দেব।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর এলাকার নতুন ভোটার রফিউদ্দৌলা ডাকুয়া বলেন, ‘বিগত দিনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকারের পরিবেশ ছিল না। যারা এই পরিবেশ করেছিল, তারা এবার ভোটের মাঠে নেই। মানুষের মধ্যে শঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত এবারের নির্বাচনের পরিবেশ অনেক ভালো দেখছি। শেষ পর্যন্ত পরিবেশ ভালো থাকলে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারব।’
গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে এবার নতুন ভোটার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, পাঁচটি আসনে ৩৫ বছরের কম বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নতুন ভোটার। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছি।’
সিএ/এমই


