ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের একাধিক স্থানীয় নেতা। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নেতাদের কেউ ভয় বা নিরাপত্তা আশঙ্কায়, আবার কেউ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বজায় রাখার কৌশল হিসেবে এমন অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
২০১৭ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হাওলাদার। এক সভায় তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। পরে সরোয়ার হাওলাদার স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবার তিনি বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। সম্প্রতি বিএনপির একাধিক উঠান বৈঠকে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে টবগী ইউনিয়নের এক উঠান বৈঠকে সরোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আমি নিজের স্বার্থেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগে না গেলে বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হতে পারতাম না। যোগদানের আগে আমি হাফিজ ইব্রাহিমের সঙ্গেই কথা বলেছিলাম।’ এই বক্তব্যে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
যোগাযোগ করলে সরোয়ার হাওলাদার বলেন, তিনি বিএনপি পরিবারের সদস্য। আত্মীয়স্বজনের চাপে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন, তবে কোনো পদ গ্রহণ করেননি। তিনি দাবি করেন, টবগীর মানুষের মতো তিনিও বিএনপিকে ভালোবাসেন।
শুধু সরোয়ার হাওলাদারই নয়, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় আরও কয়েকজন পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতাকেও বিএনপির উঠান বৈঠকে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও দেউলা ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান শাহাজাদা মিয়া তালুকদার। সম্প্রতি এক উঠান বৈঠকে তিনি কোরআন তিলাওয়াত করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনায় নানা মন্তব্যও করা হয়েছে।
শাহাজাদা মিয়া তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির প্রার্থী তাঁর নিকটাত্মীয়। এখানে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতেই তিনি গণসংযোগে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদেরও অবহিত করা হয়েছে।
টবগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হাওলাদারও দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁকেও বিএনপির উঠান বৈঠকে ভোট চাইতে দেখা গেছে। তিনি জানান, বৈঠকটি তাঁর বাড়িতে হওয়ায় উপস্থিত না থাকার সুযোগ ছিল না।
উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব কাজীকেও বিএনপির উঠান বৈঠকে দেখা গেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপিতে যোগ দেননি, তবে ব্যবসা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সিএ/এমই


